Thursday, August 13, 2015

ডিপ্লোমা শিক্ষার প্রতিবন্ধকতা ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি

ডিপ্লোমা শিক্ষাকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে বার বার।
ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে এ শিক্ষার মর্যাদা বৃদ্ধিরও। তবে
বাস্তবতা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি অবহেলা আর সঙ্কটের মুখে
পড়ে আছে এ শিক্ষাই। ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও
এর শিক্ষার্থী আর শিক্ষা গ্রহণ শেষে প্রতিটি ক্ষেত্রই
কেবল উপেক্ষা আর বৈষম্য। সরকারি পলিটেকনিকগুলোতে
৬০ থেকে ৮০ শতাংশ পদে কোনো শিক্ষকই নেই।
অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষও নেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেই।
শিক্ষক ছাড়াই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে অসংখ্য বিভাগ,
যেখানে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর চার বছরের ডিপ্লোমা
পাসের পর নেই উচ্চশিক্ষার কোনো ব্যবস্থা।
বর্তমানে দেশের ৪৯টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে নতুন
করে চালু করা দ্বিতীয় শিফটের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে
নিভুনিভু হয়ে। ৮০ ভাগ শিক্ষক সঙ্কট নিয়েই ওই শিফট
চালু করা হয়েছে। এরপর বেসরকারি ডিপ্লোমা
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার আড়ালে দেশজুড়ে চলছে
শিক্ষাবাণিজ্য। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বড় কর্তাদের
ম্যানেজ করে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক বেসরকারি
ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন; অথচ
ক্যাম্পাস, শিক্ষক, লাইব্রেরি বলতে গেলে কিছুই নেই।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতা আর প্রকৌশল ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অসহযোগিতায় শেষ
পর্যন্ত পূরণ হচ্ছে না দেশের লাখ লাখ ডিপ্লোমাধারী
শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ
দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ দীর্ঘ সাড়ে
তিন বছরেও বাস্তবায়ন করেনি দেশের কোনো
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ক্রেডিট
সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর
ডিগ্রি প্রদান কার্যক্রম শুরু করতে ২০১০ সালের ২০
ডিসেম্বরে চিঠি দিলেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড প্রদত্ত
নিম্নমানের ডিপ্লোমা সনদের কারণে তা কার্যকর করেনি
কোনো বিশ্ববিদ্যালয়।
স্বয়ং শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আক্ষেপ করে
বলেছেন, অনেক অভিভাবকই সন্তানকে ডিপ্লোমা
শিক্ষার মান ও মর্যাদার কারণে গুরুত্বপূর্ণ
কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে
চান না। ডিপ্লোমা শিক্ষাকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে অভিহিত করা হলেও এ
খাতই সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার। জাতীয় দারিদ্র্য
বিমোচন কৌশলপত্রে ২০২১ সালের মধ্যে মাধ্যমিক
পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ২০ ভাগ ডিপ্লোমা শিক্ষায়
অর্ন্তভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমানে এ শিক্ষায় শিক্ষিতের হার মাত্র ৩ শতাংশ
অথচ উন্নত দেশগুলোতে এ হার ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ
পর্যন্ত।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড জাতীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা ও
ভোকেশনাল বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে একাকার করে
জাতিকে চরম বিভ্রান্তির মুখে ঠেলে দিয়েছে। এদিকে
জাপান, কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারত
প্রাতিষ্ঠানিক ডিপ্লোমাধারীদের মেধা ও শ্রমের
বিনিময়ে উন্নতির শিখরে উপনীত হয়েছে। একটি জাতি
দীর্ঘদিন কর্মহীন, শ্রমহীন ও প্রযুক্তি জ্ঞানহীন
থাকলে তার পতন অনিবার্য। প্রতি বছর ১৪ লাখ
শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, তার অর্ধেক
অর্থাত্ ৭ লাখ তরুণকে ডিপ্লোমা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে
ভর্তি করার জন্য সকল প্রকার প্রতিবন্ধকতা দূর করা
অপরিহার্য।

post by-Sheam

No comments:

Post a Comment