Sunday, August 16, 2015

ল্যাপটপ কেনার পূর্বে আপনার যা করণীয়

বর্তমান যুগ প্রযুক্তির যুগ। আর এসময়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের ব্যবহৃত ডিভাইস হচ্ছে কম্পিউটারএটা সাধারণত্ব ২ ধরনের
হয়। ল্যাপটপ কম্পিউটার এবং ডেক্সটপ
কম্পিউটার। তবে ডেক্সটপ এর তুলনায়
ল্যাপটপ অনেক ছোট হওয়ার কারনে এর
জনপ্রিয়তা দিনকে দিন বেড়েই
চলেছে। হয়তো আপনিও সারা বছরের
জমানো টাকায় বাজেটের মধ্যে
এবার একটা মনের মতো ল্যাপটপ
কিনার কথা ভাবছেন। কিন্তু
বাজারে এতো এতো মানের
ল্যাপটপ আছে যেখান থেকে আপনার
কাঙ্খিত ল্যাপটপটি খুঁজে বের করাই
দুঃসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাই ল্যাপটপ কিনার পূর্বে এ বিষয়ে
জেনে নিন কিছু তথ্য।
প্রসেসরঃ ল্যাপটপ কিনার পূর্বে
আপনি নিশ্চিত হয়ে নিন যে ঠিক কি
কাজের জন্য আপনি ল্যাপটপটি
কিনতে যাচ্ছেন। কেননা আপনার
কাজের ধরনের উপরই প্রসেসর এর মান
নির্ধারণ করতে হবে। যেমন আপনি
যদি ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে চান
কিংবা কম্পিউটার এ মুভি দেখতে
চান বা গান শুনতে চান তাহলে
আপনার জন্য ডুয়েল কোর অথবা কোর
আই থ্রি প্রসেসরই যথেষ্ট। মনে
রাখবেন প্রসেসর এর ক্ষমতা যত বেশি
হবে ল্যাপটপ এর দামও তত বেশিই হবে।
কিন্তু যদি আপনি ল্যাপটপ এ গ্রাফিক্স
এর কাজ করতে চান কিংবা এইচডি
গেম খেলতে চান তাহলে আপনার আর
উন্নত প্রসেসর এর দরকার হবে। যেমন
কোর আই ৫, কোর আই ৭ ইত্যাদি।
র‍্যামঃ বর্তমান ল্যাপটপ গুলোতে ২
জিবি থেকে ৮ জিবি পর্যন্ত র‍্যাম
দেখা যায়। যদি আপনার বাজেট খুব
অল্প হয় তাহলে আপনি ২ জিবি র‍্যাম
এর ল্যাপটপই নিতে পারেন। তবে
বাজেট অনুযায়ী হলে ৪ জিবি র‍
্যামই ভাল। আর ৮ জিবি হলেতো
কথাই নেই। র‍্যাম এর বাস স্পীডটা
ভালো করে দেখে নিন। বাস স্পীড
যত বেশি হয় তত ভালো। তবে কম
হলেও তেমন কোনো সমস্যা নেই।
এবার দেখে নিন র‍্যামটি DDR2
নাকি DDR3DDR2 এর তুলনায় DDR3
ভালো।
স্ক্রিনঃ স্ক্রিন যত বড় হয় তত ভালো।
এক্ষেত্রে আপনি ১৫" স্ক্রিনের
ল্যাপটপ নিতে পারেন। তবে আপনার
যদি খুব বেশি যাতায়াত এর প্রয়োজন
পড়ে তাহলে ১৩" কিংবা ১৪"
ল্যাপটপও নিতে পারেন। এদিক
দিয়ে এলসিডি ডিসপ্লে এর তুলনায়
এলইডি ডিসপ্লেই ভালো। এতে
আপনি উন্নত মানের ছবি দেখতে
পারবেন।
স্টোরেজঃ স্টোরেজ  সাধারণত ২
ধরনের হয়। হার্ডডিস্ক এবং এসএসডি।
তবে হার্ডডিস্ক এর তুলনায় এসএসডি
অনেক ব্যায়বহুল। তবে এর গতি
হার্ডডিস্ক এর তুলনায় কয়েক গুন
বেশি। হার্ড ডিস্ক বর্তমানে ২৫০
জিবি থেকে ১ টেরাবাইট পর্যন্ত
পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে আপনার
চাহিদা অনুযায়ী হার্ডডিস্ক নিন।
আপনার যদি বেশি ডাটা ব্যাকআপ
রাখার প্রয়োজন হয় তাহলে ৭৫০
জিবি কিংবা ১ টেরাবাইট এর
হার্ডডিস্ক নিতে পারেন। নাহলে
৫০০ জিবি হার্ডডিস্কই যথেষ্ট।
হার্ডডিস্ক নির্ধারণ করার সময় এর
আরপিএম ভালো করে দেখে নিন।
আরপিএম যত বেশি হবে ফাইল
ট্রান্সফার এর গতি তত বেশি হবে।
গ্রাফিক্সঃ আপনি যদি কম্পিউটারে
উচ্চমানের গেমস খেলতে চান
কিংবা হাই-রেজুলেসন এর ভিডিও
দেখতে চান তাহলে ডেডিকেটেড
গ্রাফিক্স নিবেন। এক্ষেত্রে এর
পারফর্মেন্স ভালো হবে। কিন্তু
সাধারন কাজের জন্য ইন্টিগ্রেটেড
গ্রাফিক্সই যথেষ্ট। মনে রাখবেন
আপনার গ্রাফিক্স যত হাই হবে,
কম্পিউটারে তত বেশি তাপমাত্রা
উৎপন্ন হবে। এক্ষেত্রে আপনার কুলার
ফ্যান ব্যাবহার করতে হবে।
নেটওয়ার্কঃ ল্যাপটপ এ ওয়াই-ফাই,
ব্লুটুথ, এইচডিএমআই, ইউএসবি পোর্ট
আছে কিনা এবং তার সংখ্যা কত তা
ভালো ভাবে জেনে নিন। ইউএসবি
৩.০ এবং এইচডিএমআই ২.০ হল সর্বশেষ
আবিষ্কৃত প্রযুক্তি।
ব্যাটারি ব্যাকআপঃ ল্যাপটপ
কিনার পূর্বে অবশ্যই এর ব্যাটারি
ব্যাকআপ সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে নিন।
ব্যাকআপ যত বেশি হবে আপনিও তত
বেশি সুবিধা পাবেন। কেননা
আমাদের দেশে লোডশেডিং এর
সমস্যা খুব বেশি।

No comments:

Post a Comment